এই বইতে সুদৃঢ়, সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাস থেকেই একের পর এক প্রমাণ করা হবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন নবি ছিলেন। সত্য নবি। সত্যের দিকে আহ্বানকারী আল্লাহর সত্যিকারের একজন বার্তাবাহক, মেসেঞ্জার। একজন ট্রু প্রফেট।
এই বইটি পড়ে পাঠক-পাঠিকা গালে হাত দিয়ে ভাবনার অতলে তলিয়ে যাবে, ঘুমাতে পারবে না আর চিন্তায় চিন্তায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীর পাতায় পাতায়, কুরআনের পরতে পরতে তার নবুওয়াতের সত্যতা দেখে নিতে, ভেবে বের করে শেখার চেষ্টা করবে নিজে নিজে। উনাকে অস্বীকার করার আর কোনো ভিত্তিই খুঁজে পাবে না নিজের ভেতরে। মুখে অস্বীকার করলেও, ভেতর থেকে ঠিকই জেনে যাবে, উনি নবি, সত্য নবি। আর উনাকে নবি হিসেবে সত্য জানলেই ইসলামের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় অন্তরের ভেতর।
সিরাজাম বিনতে কামাল –
▪️প্রারম্ভিকা:
_____________
“কে উনি?”- বইয়ের প্রচ্ছদে “?” এর আদলে আরবি হরফ মীম দেওয়া হয়েছে। আর মীম মানে মুহাম্মদ। অর্থাৎ বইয়ের নাম কে উনি মুহাম্মদ?
▪️বইয়ের ধরণ: সিরাহ
▪️লিখেছেন: জনপ্রিয় লেখক মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর। কারণ “উল্টো নির্ণয়” বইটি পড়ার পর থেকেই আমি ভাইয়ার লেখায় মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি।
▪️বই কথন:
_____________
হৃদয় কুমার নামের সত্যানুরাগী, পড়ুয়া ছেলে বিভিন্ন বই ঘেটে, মুসলিম ইতিহাসবিদ ও স্কলারদের লেকচার, বায়োগ্রাফি খুঁটিয়ে দেখে বুঝতে পারেন মুহাম্মদ নামের কেউ একজন ছিলেন যিনি অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। দেড় হাজার বছর পরেও তাঁর কথা মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করে, তাঁকে আদর্শ হিসেবে মেনে নেয়, তাঁর কথা আজ অবধি সত্য হয়। দেড় হাজার বছর আগেই আনপড় তিনি বর্তমানের অনেক কিছুই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বলে গিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, তিনি নাকি ছিলেন সত্য নবী, একমাত্র সত্তার নির্বাচিত বার্তাবাহক। কিন্তু হৃদয় ভাবতে থাকে কীভাবে দেড় হাজার বছর পরেও সে নির্দ্বিধায় বুঝে নিতে পারবে তিনি কিছুই মিথ্যা বলেন নি এবং তিনি মস্তিষ্কের কোন সমস্যার কারণে বিভ্রান্ত ছিলেন না।
হৃদয়ের সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা দেখি বইয়ের দৃশ্যপটে হৃদয়ের একজন ভাইয়া থাকে। আর সেই ভাইয়া তাকে হৃদয়ের গহীন থেকে মোহাব্বতের সাথে সবকিছু বুঝিয়ে দেয়। সত্য চিনিয়ে দেয়৷ যার দরুণ, বইয়ের শেষে আমরা হৃদয় কুমারকে ‘আব্দুল্লাহ’ রূপে দেখতে পাই।
হৃদয়ের প্রশ্ন ছিলো চারটি।
১/ মুহাম্মদ মিথ্যাবাদী ছিলেন
২/ অথবা মানিসকভাবে বিভ্রান্ত ছিলেন
৩/ তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন এবং একইসাথে মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত ছিলেন
৪/ অন্যথায় তিনি সঠিক ছিলেন।
চারটি প্রশ্নের প্রথম দুটি মিথ্যা প্রমাণিত হলেই তৃতীয়টিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আর তার মানে চতুর্থটি সত্য। অর্থাৎ মুহাম্মদ সঠিক ছিলেন। তিনি সত্য নবী ছিলেন।
হৃদয়ের এই চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ভাইয়া প্রথমেই মুহাম্মদের ‘আল-আমীন’ নাম, আরবী ভাষার গভীরতা, মুহাম্মাদের নবুয়ত প্রাপ্তিসহ তাঁর জীবনী তুলে ধরেছেন। হৃদয়কে জানানোর মাধ্যমে আমাদেরকেও কিছু সিরাহ গ্রন্থের নাম জানিয়ে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ!
বইয়ে আলোচনার পরতে পরতে ভাইয়া নবী (সা:) এর ক্ষমার দৃষ্টান্ত, রাজনীতি, সমরনীতি, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, তাঁর হিজরত এ-সবকিছুই উল্লেখ করেছেন দরদী কন্ঠে।
এছাড়াও বইটিতে নবীজীর (সা:) করা ১৯টি ভবিষ্যদ্বাণী উল্লেখ করেছেন। শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, Some Fullfilled Prophecies of The Last True Prophet. যা তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরে, আজ অবধি সত্য হয়ে চলছে। আর তা স্পষ্ট ভাবেই জানান দেয় তিনি আসলেই একজন সত্য নবী ছিলেন।
বইটি পড়ে যেকোন দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তিই মুখে স্বীকার না করুক। মনে মনে হলেও স্বীকার করতে বাধ্য হবে হ্যাঁ, প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা:) সত্য নবী ছিলেন। মুখে স্বীকার না করলেও মনে মনে হলেও বলবে, আসলেই তিনি একজন আদর্শবান, অনন্যসাধারণ মানুষ ছিলেন।
হৃদয়কে বুঝাতে গিয়ে ব্যবহৃত হাদীস এবং আয়াত রেফারেন্সসহ উল্লেখ করা হয়েছে। বইয়ের ভাষা ব্যবহার, বইয়ের উপস্থাপনা এতটাই হৃদয়গ্রাহী ছিলো যে কেউ ভাববে, হ্যাঁ লেখক আমাকেই যেনো ডাকছেন। লেখক আমাকেই যেনো বলছেন। আমার বিশ্বাসই আরো শক্তপোক্ত হচ্ছে। আমার ভেতরের নবীপ্রেমই আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমিও নবীর উম্মত। নবীর আদর্শ রিপ্রেজেন্ট করা আমারও দায়িত্ব। সত্যের দিকে অন্যকে আহ্বান করা যে আমারও কর্তব্য।
বইটি পড়তে গিয়ে অনেকবারই আবেগাপ্লুত হয়েছি। চোখ ভিজে উঠেছে, নতুন করে নবীকে (সা:) ভেবেছি, ক্ষণে ক্ষণে মুগ্ধ হয়েছি, নবী (সা:) প্রেমে বিভোর হয়েছি। লেখকের লেখায় আল্লাহ আরও বারাকাহ দিক। যেমনটি লেখক চান। আমিও বলি এই বইয়ের উছিলায় আল্লাহ তাকে কবুল করে নিক।
▪️বইটি কারা পড়বেন?
____________________
আপনি যদি হোন সত্যানুরাগী তো বইটি আপনার জন্যই। প্লিজ বইটি পড়ুন, সত্যের দিকে ফিরে আসুন। আপনি যদি হোন সত্য পথের যাত্রী, আপনিও বইটি পড়ুন। নিজেকে যাচাই করুন, সচেতন করুন, নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে জানুন। আপনি যদি হোন অন্য কোন ধর্মাবলম্বী তবুও আপনি বইটি পড়ুন। পৃথিবীর কত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের জীবনী জানার জন্যই তো বই পড়েন। তো আমার প্রিয় নবী মুহাম্মদের (সা:) জীবনী কেন নয়! খোদার শপথ! প্রেমে পড়ে যাবেন। মাদকতাময় ভালোলাগায় বিভোর হয়ে থাকবেন।
প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা শোনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রেমে পড়লেও লাভ যে আপনারই। না হয় একদিন আপনারাই বলবেন, “তোমরা তো জানতে আমরা জাহান্নামে যাবো। আমাদেরকে কেনো আগে সতর্ক করো নি।”
বইয়ে এমনটাই বলেছেন ভাইয়া।
▪️উপসংহার:
_______________
কে উনি মুহাম্মদ? – প্রাজ্ঞ, জ্ঞানী অথচ অমুসলিম গবেষক মাইকেল এইচ হার্ট তার গবেষণা, বিশ্লেষণ, পড়াশোনা শেষ করে মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী মানুষদের তালিকায় সর্বোচ্চ স্থান দিতে বাধ্য হন। সেই তিনিই সত্য নবী মুহাম্মদ (সা:)। যিনি বইয়ের প্রচ্ছদের চাঁদ নয়, আকাশের চাঁদের চেয়েও সুন্দর। সুবহানআল্লাহ!
আগেই বলেছি হৃদয় আর হৃদয় নেই। সে এখন আব্দুল্লাহ। আর এই সুসংবাদটা সে ভাইয়াকে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।
বইয়ের প্রথম অংশে আমরা দেখবো, কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতায় এই প্রথম একটা অদ্ভুত লাশ দেখেন। লাশের মুখে হাসি ফুটে রয়েছে৷ একটা কল এসেছে লাশের পকেটে থাকা মোবাইলে। তিনি চিন্তা করেন কলটা রিসিভ করবেন।
বইয়ের শেষ অংশে আমরা দেখি পুলিশ কলটা রিসিভ করার আগেই স্ক্রিনের দিকে তাকান। সেখানে সেভ করা নামটা ছিলো “হৃদয়ে আব্দুল্লাহ”।
পুরো কাহিনি জানতে নিজেই বইটি সংগ্রহ করে পড়ে নিন।
আসলে এটাকে বই রিভিউ বলা যাবে কি না জানিনা! তবে বই পাঠ্যানুভূতি তো বলা যায়ই। সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে, ভিন্ন উপস্থাপনায় মনকাড়া একটি সিরাহ গ্রন্থ ‘কে উনি’?
একবার পড়লেই মন তৃপ্ত হবে না, বারবার পড়তে ইচ্ছে হবে এই বই।
▪️বই পরিচিতি:
______________
বই: কে উনি
লেখা: মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর
প্রকাশনী: সমকালীন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
মূল্য: ১৭২/-
▪️লেখক পরিচিতি:
_________________
মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে একজন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার এবং বায়োটেকনোলজিস্ট। নিজের বিভাগ, ফ্যাকাল্টি-সহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ রেজাল্টের কারণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন।
নৈতিক ও আর্দশিক জীবনে, তিনি একজন সমর্পিত মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তার প্রথম বই ‘উল্টো নির্ণয়’। সহলেখক হিসেবে লিখেছেন- সত্যকথন, প্রত্যাবর্তন ও বাতায়নে। ‘কে উনি’ লেখকের দ্বিতীয় মৌলিক বই।