প্রজেক্ট পরিচিতি

যে জিনিসটি নীরবে বদলে দেয় ইতিহাসের গতিপথ, তা হলো বই। বই কথা বলে না, কিন্তু জ্ঞান ছড়ায়। পেশী নেই, কিন্তু রাখে অদম্য শক্তি। বইয়ের মায়াবি চোখ নেই, কিন্তু ওলট পালট করে দেয় মানুষের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি। মাটির মানুষ সোনা হয় বইয়ের হাত ধরেই। বিশ্বের বুকে মহান রবের প্রথম পদনির্দেশকারী বার্তা ঠিক এই কারণে ছিল, “পড়ো”। তাই প্রযুক্তির বাহুল্যের এ যুগে বই দিয়ে দেশটাকে সাজাতে মানুষকে খলিফা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই প্রজেক্ট।

রমাদান ফান্ড রাইজিং ক্যাম্পেইন - ২০২৬

২০২৬ সেশনে “সিয়ান লাইব্রেরি প্রজেক্ট”-এর তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ২০০টি লাইব্রেরি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি স্থাপনে প্রয়োজন মাত্র ৩০,০০০ টাকা। এই বাজেটের মধ্যেই থাকবে ২০০টি মানসম্মত বই, একটি বুক সেলফ, সম্পূর্ণ ইন্সটলেশন এবং দায়িত্বশীলদের জন্য অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম।

আপনি কতো টাকা সাদাকাহ করতে ইচ্ছুক

ব্যয়ের খাতঃ

সিয়ান ফাউন্ডেশনের সাধারণ তহবিলে দান করার মাধ্যমে আপনি ফাউন্ডেশনের সকল কল্যাণমুখী কাজের অংশদার হতে পারেন।

সাদকাহ জারিয়াহ মানে- যে দানের উপকারিতা শুধু এককালীন নয়; বরং চলমান ও দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে। যে দানের উপকারিতা একবারই অর্জিত হয় সেগুলোর সওয়াবও একবারই হয়। পক্ষান্তরে যে দানের উপকারিতা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে সেগুলোর সওয়াব তথা বিনিময়ও মহান আল্লাহ দীর্ঘ দিন পর্যন্ত অব্যাহত রাখেন।

আমাদের সাথে যুক্ত হোন

আপনার পরিচিত কোনো মাদ্রাসা, স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকে, তাহলে আপনি সিয়ান লাইব্রেরি প্রজেক্টের অংশীদার হতে পারেন। আপনি এই প্রজেক্টে স্পন্সর করতে পারেন, লাইব্রেরি স্থাপনে বয়স উপযোগী গল্পের বই সরবরাহ করেও আমাদের সহায়তা করতে পারেন।

ভলান্টিয়ার

প্রতিষ্ঠান

যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিন প্রকার আমল অব্যাহত থাকে— ১. সদাকাহ জারিয়াহ; ২. এমন জ্ঞান যার দ্বারা অন্যের উপকার হয়; ৩. যে সুসন্তান তার জন্যে দু‘আ করতে থাকে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩১)

যেখানে আমাদের লাইব্রেরী গুলো হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, দেশ ও জাতির মূল কেন্দ্র আমাদের ছাত্রসমাজ। তারাই বারবার বদলে দিয়েছে দেশের রোখ, ইতিহাসের গতিপথ। ৮০, ১৩, ২৪—প্রতিবারেই তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছে, “না!” তাই ছাত্রসমাজকে সঠিক পথ দেখাতে, সোনার মানুষ করে গড়ে তুলতে আমাদের এই কার্যক্রম। আমরা আমাদের প্রজেক্ট সাজিয়েছি শহর ও গ্রামের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোকে কেন্দ্র করে।

গ্রামীণ মাদ্রাসাগুলো নিঃসন্দেহে দ্বীনি শিক্ষার মূল ভিত্তি। কিন্তু সুযোগ ও উন্নয়নের অভাবে বিশাল জ্ঞানভান্ডার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি ইত্যাদি নিয়ে গ্রামীণ মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রায়ই অজ্ঞাত থেকে যায়। বিকেন্দ্রিকরণের অভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নানা আয়োজন ও প্রকল্প থেকে গ্রামীণ মাদ্রাসার ছাত্ররা বঞ্চিত থেকে যায়। এ জায়গায় আমাদের এ প্রজেক্ট তাদের সামনে উন্মোচনা করে এক নতুন দিগন্ত। এ প্রজেক্ট যেমন একদিকে তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়নের কাজ করবে, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে নানা দেশী-বিদেশী শক্তির চালানো নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় তাদের হাতিয়ারও হতে পারে

১৩ হোক কিংবা ২৪—শহরাঞ্চলের মাদ্রাসার ছাত্ররা কখনও হতাশ করেনি বাংলাদেশকে। যতবারই দ্বীন কিংবা কওমের ডাক এসেছে, এখানকার ছাত্ররা বরাবরই সাড়া দিতে দেরি করেনি। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে থেকেও তারা জাতির প্রয়োজনে সাড়া দিতে এতটুকু কুন্ঠাবোধ করেনি। সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব হয়ে উঠে আসার ভালো সম্ভাবনা আছে মাদ্রাসার ছাত্রদের। কিন্তু বরাবরই তাদেরকে এ সমীকরণের বাইরে ধরা হয়েছে। এমন অবস্থায় নেতৃত্ব গঠন, দ্বীন ও দুনিয়ার সংযোগ তৈরি, সমাজ ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় মানসিকতা ও যোগ্যতা অর্জন—এসব ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে আমাদের প্রজেক্ট।
গ্রামীণ স্কুলগুলো দেশের ভিত্তি, যেখানে লক্ষ লক্ষ শিশু-কিশোরের স্বপ্নের বীজ বপন হয়। কিন্তু অভাবের ছায়ায়, আধুনিক জ্ঞান, দ্বীনি জ্ঞানের স্রোত এবং বিশ্বের নানা ঘটনা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে। গ্রামের সীমিত সুযোগে তারা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, ফলে স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে পড়ে সীমিত। আমাদের লাইব্রেরি প্রজেক্ট কাজ করে ঠিক এ জায়গাতেই। এ প্রজেক্ট তাদের হাতে তুলে দেয় সত্যিকার জ্ঞান ও কুসংস্কারমুক্ত ইলমের হাতিয়ার। তা তাকে প্রশ্ন করতে শেখাবে সকল আচার-প্রথা, শেখাবে চিন্তা করতে। নিছক ছাপোষা চাকুরে কিংবা ‘গ্লোরিফাইড’ দাসত্ব থেকে বের হয়ে সে হবে সমাজ বদলে দেওয়া এক নতুন নেতৃত্ব।
প্রযুক্তি ও গতির মাঝে বেড়ে ওঠা শিশু, জ্ঞানের গভীরতা ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবে প্রায়ই হয়ে পড়ে দিকভ্রান্ত। শহরের চাকচিক্যের মাঝে পড়াশোনা তার কাছে শুধুই কর্মজীবনের সিঁড়ি, তা তাকে স্বপ্ন দেখায় না, গড়ে তোলে না মানবিক মূল্যবোধ। টম এন্ড জেরি কিংবা কাজের বুয়ার হাতে বেড়ে ওঠা শিশু দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সমাজের নানা চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক ঘটনা এবং বিশ্বের পরিবর্তন থেকে থাকে অনেক অনেক দূরে। লাইব্রেরি প্রজেক্ট তাকে পরিচয় করিয়ে দেবে এক নতুন জগতের সাথে। বিশ্বটা ঠিক কত বড়, তার কতকিছু করার আছে—চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে। গড়ে তুলবে নতুন এক মানুষ।

ফটো গ্যালারি